কবি মাহিরা রুবির পাঁচটি কবিতা
শিমুলের আয়ু
*
ঢেউঢেউ জল নিয়ে উঠোনে নদী এলে দোর খুলিনা, তাড়িয়ে দিই;
নদী মাতাল প্রেমিক, অল্পতে ঘুমিয়ে যায় চোখের বিছানায়।
আমি হরতনি গেরস্থ্য, ঘর তুলেছি হিমচাপায়।
ছুটিভর্তি ডাকবাক্স ঝুলিয়ে রেখেছি হাতকাটা প্রেমে।
শীতল বাইপাস যেমন মূকাভিনয়,
শিমুলও তেমন উড়ে যাওয়া পাখি।
জল শুকোলেও নদী নদীই থেকে যায়, চোখ হয় অসুখ।
সংকেতচিহ্নে ডোরবেল হয়ে আছি,
কবরফলকের নামে বোতাম ভেঙে গেলেই বেজে উঠব ক্রিংক্রিং…. ক্রিংক্রিং….
নিরানব্বইটি বিকেলফুল
*
ভেবেছি মায়ের দুঃখ আঁকা শেষ হলে একটা সমুদ্র বানাব। অথচ,মায়ের চোখ পর্যন্ত যেতে সমস্ত রঙ ফুরিয়ে যায়;- খোঁপা আঁকতেই উড়ে আসে চিল।
একদিন মায়ের চুলে গুঁজে দেব শূন্য থেকে তুলে আনা নিরানব্বইটি বিকেলফুল।
মা দুপুর ভালোবাসে, ঝাঁঝাঁ রোদ্দুরের সাথে তার বকুল বকুল ভাব।
আমরা মাকে ভালোবেসে রোজ জায়নামাজের পাশে গোল হয়ে বসি; প্রথম চুমুটা পেতে বাধিয়ে ফেলি কপাল ঠোকাঠুকি।
নামাজ শেষে মা আমাদের কপালে জান্নাত এঁকে দেন।
মোনাজাত
*
ভুলে যাই অন্ধকারও একেকটা পাখি―ঘুমের আবেশ নিয়ে অজস্র শরীর।
উনিশে পৌঁছাতে ঝরে যায় ছাব্বিশটি কুর্চিফুল; যার কোন স্বয়ং ছিলনা।
সময় ছুঁয়ে জেনেছি―সাঁতার না জানলে আত্মহত্যাও আয়ুষ্মান নদী।
ঘ্রাণের ওপাশে সবুজ আপেলপাতা।
ঋতু এলে গাছেরাও জ্যোৎস্নামুখি, বেহাগ বাজাতে বাজাতে হয়ে ওঠে তাহাজ্জুদের মতো একা।
অপেক্ষা―সেও মৌন ঘ্রাণ, যা ছিটিয়ে থাকে সমগ্র মোনাজাত জুড়ে।
চিঠি
*
চিঠিটা জমা রেখেছি বাতাসের বুক পকেটে,প্রতিটি শব্দ যার এক একটা রেলগগাড়ি-
কামরা জুড়ে ওক গাছের অচেনা নিঃশ্বাস।
কেউ কি এসেছিল সঙ্গোপনে
বসন্তের খাতায় দীর্ঘশ্বাসের নামতা লিখতে………
কিছু কি শোনাতে চেয়েছিল গঙ্গাফরিং উড়ে যাওয়ার আগে?
কার যাওয়ার ছিল,,,,,,
দুরত্ব! সেতো সরল সাত রঙ-
দলছুট ইজেলে আঁকা কানামাছি স্মৃতি
সেই চিঠিটা আজই ছেড়ে দেব সমুদ্রের ডাকবাক্সে,
খুঁজে নিও-যে তুমি দাঁড়িয়ে আছ জলের চাতালে।
কবি পরিচিতি
মাহিরা রুবি। জন্ম ১৫ জুন ১৯৯২। রূপসা, খুলনা। কাব্যগ্রন্থ - নুনপাখি, বইমেলা ২০২২